-:- বাস্ত্র শাস্ত্র ও প্রয়োজনীয় কিছু টিপস্ -:-
গৃহ ও নিরাপত্তা শব্দ দুটি মানুষের জীবনের সাথে অতোপ্রতোভাবে জড়িত। বসবাসের জন্য গৃহ নির্মানের বিধি বা প্লানই হচ্ছে বাস্ত্র শাস্ত্র। বাস্ত্র শাস্ত্র মূলত - জমি, গৃহের অবস্থানগত শুভ-অশুভ বিচার বিবেচনায় গৃহ নির্মান পদ্ধতি। নির্মান শৈলী বা ব্যবহৃত উপাদানের বিচারে নয়। বাস্ত্র শাস্ত্র বিধান অনুসারে গৃহের ব্যবহৃত কক্ষ সমূহ যেমন - পড়ার ঘর, শোবার ঘর, রান্নাঘর, বাথরুম, স্টোর ইত্যাদি অবস্থান এর নির্মান নক্সা বা প্লান। গৃহের মূখ্য দরজা, জালানা, করিডোর, বারান্দা, সিড়ি ইত্যাদি অবস্থান, বিভিন্ন বস্তু আসবারপত্র যেমন - আয়না, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাদি, একুরিয়াম ইত্যাদি স্থাপনার স্থান সুনিদিষ্ট করে বলা হয়। এছাড়াও বাস্ত্র শাস্ত্রে নির্মান নকশা বা প্লান এর পাশাপাশি বিভিন্ন কক্ষে রং ব্যবহারেরও পরামর্শ দেওয়া হয়। গৃহ নির্মান যদি দোষমুক্ত বা ক্রুটিমুক্ত হয় অর্থ্যাৎ গৃহ নির্মান যদি বাস্ত্র বিধি অনুসারে হয় তাহলে সে গৃহে বসবাসকারীর জীবনে আশাতীত সাফল্য আসে, সার্বিক ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়। বসবাসকারীর গৃহ নির্মান যদি দোষযুক্ত বা ক্রুটিযুক্ত হয় তবে ভাগ্য ভালো থাকলেও তখন তা থেকে যথেষ্ট সুফল পাওয়া যায় না বলে ধারনা করা হয়, সুখ বা শান্তিতে থাকা সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা অনুযায়ী। তবে আল্লাহ বলেছেন, দোলনা হতে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অর্জন করতে তা যেকোন বিষয় হোক না কেনো, তার মানে জ্ঞানের দরজা অনেক উর্দ্ধে। বাস্ত্র শাস্ত্র অনুযায়ী গৃহ, মিল, কারখানা বিভিন্ন ইমারত নির্মান এর প্রচলন হাজার হাজার বছর আগের থেকে বিভিন্ন দেশে হয়ে আসছে। এ নিয়ে বিভিন্ন দেশে লেখা পড়া ও গবেষনার ব্যাপক ব্যবস্থা রয়েছে। বাস্ত্র শাস্ত্রের ইতিহাস অনুযায়ী জানা গেছে যে ভারতবর্ষের অধিকাংশ গৃহ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাস্ত্র শাস্ত্রর নিয়ম বা বিধি অনুযায়ী নির্মিত। এর মধ্যে ভারতের জয়পুর শহর ১০০ ভাগ বাস্ত্র শাস্ত্র নিয়মে বা বিধানের আধারে নির্মিত এবং ১০০ ভাগ বাস্ত্র দোষহীন ভাবে নির্মিত। পশ্চিম জার্মানীর প্রতিটি ভবন ১০০ ভাগ বাস্ত্র বিধির নিয়ম অনুসারে নির্মিত। ভারতের কেরেলা বিশেষ করে বেঙ্গলোর শহর ১০০ ভাগ বাস্ত্র দোষহীনভাবে নির্মিত।
ভূমি ক্রয় ও গৃহ নির্মানের ক্ষেত্রে বিশেষ সতকর্তা -
# গৃহ নির্মানের জন্য নির্ধারিত জমি বর্গাকার হলে সর্বোৎকৃষ্ট।
# টিলার আকারর বা ডিম্বাকৃত জমির বাড়ীতে বসবাসকারীরা সর্বদা অশান্তিতে থাকেন।
# আয়তাকার জমিতে বর্গাকার দালান হলে খুব ভাল হয়।
# চতুর্ভূজ জমি অথচ জমির চারটি কোন সমান নয় সেখানে বসবাস ধনযোগ বাড়ায়।
# আধখানা চাঁদের মত জমিতে বসবাস করলে সব সময় চোর ডাকাতের উপদ্রব থাকে।
# গোলাকার বাড়ী ব্যবসায়িক কাজের জন্য লাভজনক।
# গোলাকার জমির বাড়ীর নকশা বা প্লান ও গোলাকার হওয়া সমিচীন।
# বাড়ীর মূখ্য দরজা দক্ষিনে হলে উত্তরে ও একটি দরজা থাকা ভাল, তেমনি ভাবে পশ্চিম মূখী দরজা হলে পূবে ও একটি দরজা থাকা প্রয়োজন।
# দুটি কক্ষের দুটি দরজা কখনই মুখোমুখি থাকা ঠিক নয়।
# প্রার্থনা কক্ষের উভয় মাপ সমান হলে মনে প্রশান্তি বিরাজ করে।
# কক্ষের মাপ ও সংখ্যা জোর হলে গৃহে সাম্য, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করে। অথ্যাৎ সুখী গৃহকোনের জন্য জোর সংখ্যা বাঞ্চনীয়।
# ব্যবসা বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য বি-জোড়/বিষম সংখ্যা শুভ। বিষম সংখ্যা উত্তরোত্তর শ্রী বৃদ্ধি ও উন্নতি বয়ে আনে। বিষম সংখ্যায় ডিরেকশনাল পাওয়ার থাকে অথ্যাৎ পক্ষ ও বিপক্ষ শক্তি অসম হয় বিধায় এরূপ প্রভাব পড়ে।
ব্যবসায় লাভ হওয়ার কিছু নিয়ম-
* আলমারী বা সিন্দুক এর মুখটি যাতে পূর্ব দিকে বা উত্তর দিকে খোলে। তার মানে আলমারী বা সিন্দুক টিকে পশ্চিম দিকের পিছনে অথবা দক্ষিন দিকের পিছন দিয়ে দাড় করাতে হবে। এটি একটি পরীক্ষিত টিপস।
* নিজের দোকানের অথবা ব্যবসা স্থলে এমন কোন চিত্র লাগানো উচিৎ নয় যাতে কোন ক্রন্দরতব্যক্তি, যুদ্ধ, কোন অশান্তি, কোন দুঃখ দায়ক চিত্র ইত্যাদি রাখা উচিৎ নয়। এতে দোকানের গ্রাহক সংখ্যা কমে যায়। এতে ব্যবসার ক্ষতি হয়।
* দোকান বা ব্যবসা ক্ষেত্রের মধ্যে কোন রাবার বা ক্যাকটাস জাতীয় গাছ লাগানো ঠিক নয়। এতে ব্যবসায় ভীষন ক্ষতি হয়।
* নতুন কোন ব্যবসা শুরু করলে ব্যবসা স্থলে বা দোকানের জন্য কোন পুরনো দ্রব্য বা ব্যবহারকৃত কোন আসবাবপত্র ব্যবহার করা উচিৎ নয়।
* কোন ব্যবসায়ীক ক্ষেত্রের ঈশান কোন অবরুদ্ধ করে রাখা উচিৎ ময়। ঈশান কোন অবরুদ্ধ থাকলে সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ লাভ করা যায় না। এর ফলে ব্যবসা বা দোকানে ধার দেনা অশান্তি ইত্যাদি সর্বদা লেগে থাকে।
* কোন ব্যক্তিকে দান দেবার সময় সর্বদা নিজের মুখ পূর্ব অথবা উত্তর দিকে রাখা শুভ। দান দেবার সময় নিচে তাকান উচিৎ নয়।
* কন্যা সন্তান যখন বিবাহযোগ্য হবে তখন তাকে বায়ু কোনের ঘরে শোয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এর ফলে তার তারাতারি বিবাহ হবে।
* কার পাকিং গ্যারেজ বায়ু কোনে হওয়া সর্বশেষ্ঠ কিন্তু ঈশান কোনে গ্যারেজ বানানো উচিৎ নয়।
* কোন অসুস্থ ব্যক্তিকে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য নৈঞ্ঝাত কোনে শোয়ানো অতি শেষ্ঠ। বায়ু কোনেও শোয়ানো যেতে পারে।
* কোন অসুস্থ ব্যক্তিকে ঔষধ দেবার সময় নিজের মুখ ঈশান কোনের দিকে রাখতে হবে। এতে বিধাতার অনুগ্রহে অসুস্থ ব্যক্তি শ্রীঘ্রই সেরে যাবে।
বাস্ত্র শাস্ত্র মতে গৃহ নির্মানে দিক শোধন ও সুখশান্তি-
# পশ্চিম দিক: গৃহের বারান্দার পশ্চিম ভাগ নিম্ন স্তরের হলে গৃহ কর্তার অপযশ ও আর্থিক ক্ষতি হবে। যদি বৃষ্টির পানি পশ্চিম দিক হয়ে গৃহ থেকে বোরয় তাহলে গৃহকর্তা অসুস্থ থাকে।
# পূর্ব দিক: যদি পূর্ব দিক ভূর্গস্থ অপেক্ষা বারান্দা উচু হয় তাহলে গৃহ কর্তার ধন অভাব হবে। সে ঋন করবে এবং সর্বদা অশান্তিতে ভূগবে।
# পূর্ব দিক যদি নোংরা আবর্জনা ও মাটির স্তুপ থাকে, তাহলে ঋন ও সন্তান হানি হতে পারে।
# পূর্ব দিকে প্রধান দরজা হলে এবং অন্য দরজা অগ্নি কোনে থাকলে গৃহকর্তা দরিদ্র হবে এবং বাড়িতে চুড়ি ও অগ্নি ভয় থাকে। কোটকাচারিতে যেতে হতে পারে।
# পূর্ব দিকের জমি উচুঁ থাকলে গৃহকর্তা দরিদ্র হবে। বাড়ির পূর্ব দিক নোংরা হলেও একই প্রভাব গৃহকর্তার ওপর পরবে। পূর্ব দিক সবর্দা পরিস্কার রাখা উচিত।
# দক্ষিন দিক - গৃহের প্রধান দরজা দক্ষিন দিক ও অগ্নি কোনে যদি থাকে তাহলে চুরি-ডাকাতি ও অগ্নি ভয় থাকে। যদি দরজার সামনে অন্য কোন গৃহ বা দেয়াল থাকে তাহলে এই সমস্ত সমস্যা থেকে গৃহ মুক্ত থাকবে। যদি সামনে কোন গর্ত, মাঠ বা অন্ধকার জায়গা থাকে তাহলে গৃহকর্তার সকল ভাইদের অনেক কষ্ট হবে।
# যদি গৃহের দক্ষিন দিকে অধিক স্থান থাকে তাহলে গৃহ কর্তার ধনহানি অকারন ঝগড়া এবং গৃহে বসবাসকারী মহিলাদের মনে সবর্দা অশান্তি লেগে থাকবে।
# উত্তর দিক - যদি উত্তর দিকে বানানো গৃহের গলি সংকির্ণ হয় ও বা পুরাতন বাড়ী থাকে এবং বাড়ীর দেয়াল ছাড়া ছাড়া হয় তাহলে বুঝতে হবে ঐ দিকে কোন প্রাচীন বস্তু একত্রিত আছে বা ঐ দিকে সপরাজ্য বা সাপদের বসবাস ছিল। এর ফলে গৃহে বসবাসকারী সদস্যদের ভাগ্য মন্দ হবে। তাদের যা কিছু থাকবে তা ধীরে ধীরে সব শেষ হয়ে যাবে। যদি উত্তর দিকে কোন নল লাগানো হয় বা মেইন হল থাকে তাহলে সবর্দা ধন অভাব হবে।
# যদি গৃহের উত্তর দিকে কোন টিলা, গবরের স্তুপ বা ফালতু জিনিস থাকে তবে সম্পদ হানি হবে।
# যদি উত্তর দিক বিকৃত হয় তবে মার দিক থেকে কখনো সুখ পাবেনা।
# যদি উত্তর দিকে কোন পুরোনো বাড়ী থাকে, বাড়ীর কোন দেয়ালে বা ঘরে ফাটল ধরে বা জরাজীর্ন হয় তবে গৃহকর্তা স্ত্রীকে নিয়ে ঝামেলায় পড়বে।
# ঈশান কোন - যদি গৃহের ঈশান কোনে দোষ থাকে তাহলে সন্তান বিকলঙ্গ হবে।
# ঈশান কোনে নোংরা, আবর্জনা ইত্যাদি থাকলে শত্রু সৃষ্টি হয় এবং সেই গৃহে বসবাসকারী পুরুষদের আয়ু ক্ষয় হয়। বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতা লেগেই থাকে।
# ঈশান কোনে শৌচালয় বা বাথরুম তৈরী করা খুবই অনিষ্টকর। এর ফলে ঘরে কখনই সুখ-শান্তি থাকবে না।
# যদি গৃহের চার দেয়ালে ঈশান কোন ঠিক থাকে কিন্তু ঘরের ঈশান কোন লুপ্ত প্রায় হয় তবে গৃহকর্তা নিজ সন্তানের মৃত্যূর কারন হয়।
# বায়ু কোন - যদি গৃহের বায়ু কোনে উলান রাখা হয় তবে গৃহে সবর্দা অতিথি আসবে যে কারনে অযথা সময় ও অর্থ ব্যয় হবে।
# গৃহের বায়ু কোন চ্যাপ্টা হলে গৃহর্হতা নিজের অর্থের সঠিক ব্যবহার করতে পারবে না।
# গৃহের বায়ু কোনে রান্না ঘর হলে স্ত্রী লোকেরা সবর্দা বিষন্ন থাকবে।
# গৃহের বায়ু কোনে বাথরুম থাকলে পরিবারের লোকদের সুখ শান্তি থাকবে না।
# নৈস্ঝার্তক কোন - যদি পুরোনো বাড়ির নৈস্ঝার্ত কোন ভাঙ্গা চুড়া বা ফাটল যুক্ত হয় তবে ঘরে জ্বিন, ভূত ও পিচাশের প্রকোপ দেখা দেয় ।
# নৈস্ঝার্তক কোনে রান্ন ঘর হলে স্বামী-স্ত্রীতে সবর্দা ঝগড়া হয়।
# যদি নৈস্ঝার্তক কোনে কোন খালি জায়গা বা গর্ত বা কাটাঁ ওয়ালা গাছ থাকে তাহলে গৃহকর্তা সবর্দা অসুস্থ থাকবে।
# অগ্নি কোন - যদি অগ্নি কোনে কুয়া বা গর্ত থাকে তাহলে গৃহিনীর সঙ্গে তার শ্বাশুরীর বনি-বনা হবে না সবর্দা ঝগড়া লেগেই থাকবে।
# অগ্নি কোনে রান্না ঘর হলে সর্বশেষ্ঠ। কিন্তু যদি রান্না ঘর ভাঙ্গাচোরা হয় তাহলে গৃহিনীর জীবন সংঘর্ষময় হবে।
# যদি উত্তর দিকে রান্না ঘর হয়, রান্না ঘরের সাথে বাথরুম হলে ঘরের বৌ-য়েরা নিজেরাই ঝগড়া ঝাটি করবে। যদিও ভাইদের মধ্যে সু-সম্পর্ক থাকবে। যদি উত্তর দিকে কেবল রান্না ঘর থাকে তবে ঘরে নানা রকম দুঃখ কষ্ট হবে।
# গৃহের উত্তর দিক যদি উচুঁ হয় তবে বৌ-য়েরা সবর্দা নানা রকম রোগব্যাধিতে ভূগবেন। এমন পরিবারে ধন-সম্পদ নষ্ট হয়।
লায়ন রাজু আহমেদ, জ্যোতিষী ও রত্ন পাথর বিশারদ (স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত)
+৮৮০ ১৯৩৭২৭৯৪২৬, +৮৮০ ১৬৭০৬৩১১৭৭
দোকান নং- ১৪৬/বি, ৩য় তলা(লিফটের পাশে),
সিদ্ধেশ্বরী, আনারকলি সুপার মার্কেট, মৌচাক, ঢাকা-১২১৭